
“বৃষ্টি বিলাস”
প্রস্ফুট মন্ডল
আজকের সকালটা ছিলো কবিতা পাঠের।
অথচ আমি ব্যস্ত ভীষণ কাজে।
বৃষ্টি এসে আমায় ডাকছে বারবার
জানালার থাই গ্লাসে টুপটাপ শব্দে।
বলছে- “এসো, আজ একটু থেমে যাও,
সব হিসেব থাক না আজকের মতো।
জীবন তো শুধু কাজের ভিড় নয়,
একটু ভিজে দেখো মেঘের নীল নীরবতা।”
আমি তখনও ব্যস্ত…
কাগজের পাতায় জমে থাকা কত নাম!
কত অসমাপ্ত হিসেব!
কত প্রয়োজনীয় অঙ্ক!
অথচ বাইরে
একটা ভেজা সকাল দাঁড়িয়ে আছে।
হাতে তার কদম ফুল।
চোখে পুরোনো কবিতার মায়া।
হঠাৎ মনে হলো-
কাজগুলো তো কালও করা যাবে।
এই বৃষ্টি কি কালও এমন করে ডাকবে?
এই সকাল কি ফিরে আসবে?
একই রকম কবিতাময় হয়ে?
সবকিছু সরিয়ে রেখে
জানালার পাশে এসে দাড়ালাম।
বৃষ্টির শব্দে শব্দ মিলিয়ে
আজ নিজেকেই একটু পড়লাম।
দেখলাম- আমার ভেতরেও অনেকদিন ধরে
একটা বৃষ্টি জমে আছে,
যার কোনো কাজের তাড়া নেই।
শুধু আছে-
একটু কবিতা হয়ে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা।
আজকের সকালটা তাই
কবিতা পাঠেরই হলো।
তবে কবিতার বই খুলিনি।
বৃষ্টির চোখে চোখ রেখে
নিজেকেই পড়ে নিলাম।