1. narailerkagoj@gmail.com : admin :
  2. habibabrac1995@gmail.com : Delowar@1999 :
  3. kalamsarder3@gmail.com : Kalam Sarder : Kalam Sarder
  4. tajiburs.tr@gmail.com : tajiburnarail :
  5. tanjimsheikh.mail@gmail.com : tanjim Sheikh : tanjim Sheikh
নড়াইলে সংসার সামলে শিক্ষা ও চাকুরির স্বপ্ন জয় করেছেন রত্না
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

নড়াইলে সংসার সামলে শিক্ষা ও চাকুরির স্বপ্ন জয় করেছেন রত্না

কালিয়া অফিস:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫৯ বার পঠিত

বিয়ের পর স্বামীর চাকরি হারানো, সংসারে অভাব আর অনিশ্চয়তা সব বাধা পেরিয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন, স্বল্প বেতনের প্রকল্পকর্মী থেকে ব্র্যাকের স্থায়ী কর্মী।

 উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময়ই বিয়ে। এরপর স্বামীর চাকরি হারানো, সংসারে আর্থিক সংকট, অভাব-অনটন আর পারিবারিক দায়িত্বের চাপ। একসময় মনে হয়েছিল, হয়তো আর পড়াশোনা করা হবে না। সংসারের বাস্তবতার কাছে হারিয়ে যাবে নিজের মতো করে বাঁচার স্বপ্ন।

কিন্তু হার মানেননি উম্মে হাবিবা রত্না।

জীবনের কঠিন সময়গুলোকে পেছনে ফেলে ধৈর্য, অধ্যবসায় আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে এগিয়ে গেছেন তিনি। সংসারের দায়িত্ব সামলেছেন, সন্তানদের বড় করছেন, চাকরি করেছেন। এরই মধ্যে অর্জন করেছেন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। স্বল্প বেতনের প্রকল্পকর্মী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে আজ তিনি বেসরকারি এনজিও ব্র্যাকের স্থায়ী কর্মী।

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার উম্মে হাবিবা রত্নার এই পথচলা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, এটি প্রতিকূলতার মধ্যেও নারীর ঘুরে দাঁড়ানোর এক বাস্তব উদাহরণ।

স্বপ্নের শুরু, তারপর জীবনের কঠিন বাস্তবতা

উম্মে হাবিবা রত্নার বাবার বাড়ি নড়াইলের কালিয়া পৌরসভার মির্জাপুর গ্রামে। তাঁর বাবা রুহুল শেখ ও মা আসমা বেগম। বর্তমানে তিনি কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানাধীন খাশিয়াল ইউনিয়নের শুড়িগাতী গ্রামে স্বামীর সংসারে বসবাস করছেন।

২০১৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তাঁর। নতুন সংসার, নতুন পরিবেশ আর ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা স্বপ্ন ছিল রত্নার।

বিয়ের সময় স্বামী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তাঁর উপার্জনেই চলছিল সংসার। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাকরি হারান স্বামী।

হঠাৎ সংসারের নিয়মিত আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানোই কঠিন হয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতিতে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া রত্নার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

একদিকে নতুন সংসারের দায়িত্ব, অন্যদিকে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। সব মিলিয়ে কঠিন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হন তিনি।

তবুও মনের ভেতর লালন করা শিক্ষার স্বপ্নকে হারিয়ে যেতে দেননি।

অভাবের সংসারেও বই ছাড়েননি

আর্থিক সংকটের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রত্না। তাঁর বিশ্বাস ছিল, শিক্ষা শুধু একটি সনদ অর্জনের বিষয় নয়, শিক্ষা একজন নারীকে আত্মবিশ্বাসী করে, নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার শক্তি দেয় এবং আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ তৈরি করে।

কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ান তাঁর স্বামী। সংসারের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্ত্রীকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেন।

নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন রত্না।

কিন্তু এখানেই থেমে থাকতে চাননি। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হন মুন্সি মানিক ডিগ্রি কলেজে।

সংসারের কাজ শেষ করে পড়াশোনার জন্য সময় বের করা, পারিবারিক দায়িত্বের সঙ্গে শিক্ষাজীবনের সমন্বয় করা সবই ছিল তাঁর দৈনন্দিন সংগ্রামের অংশ।

অবশেষে সেই পরিশ্রমের ফল পান।  অর্জন করেন স্নাতক (বিএ) ডিগ্রি।

স্বল্প বেতনের চাকরিতে নতুন লড়াই

পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটানোর ইচ্ছাও ছিল রত্নার।

স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় চাকরির চেষ্টা শুরু করেন। একপর্যায়ে এনজিও ব্র্যাকে প্রকল্পকর্মী হিসেবে কাজের সুযোগ পান।

শুরুর বেতন খুব বেশি ছিল না। তবে চাকরিটি তাঁর জীবনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়।

নিজের উপার্জন দিয়ে সংসারের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পান তিনি। একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং নিজের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যান।

চাকরি পাওয়ার পর তাঁর দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। কর্মস্থলের কাজের পাশাপাশি সংসারের দায়িত্ব পালন এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সহজ ছিল না।

তবুও থেমে যাননি রত্না।

চাকরির পাশাপাশি মাস্টার্স, পূরণ হলো আরেক স্বপ্ন

একসময় যে নারীর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনাই বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সেই নারীই চাকরি ও সংসারের দায়িত্ব সামলে উচ্চশিক্ষার সর্বশেষ ধাপ পর্যন্ত এগিয়ে যান।

কর্মব্যস্ত জীবনের মধ্যেও পড়াশোনার জন্য সময় বের করেন। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে  অর্জন করেন স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি।

এই অর্জন তাঁর কাছে শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি নয়, বরং দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও পরিশ্রমের ফল।

পড়াশোনার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রেও এগিয়ে যেতে থাকেন তিনি। ব্র্যাকে প্রকল্পকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি পান। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির স্থায়ী কর্মী হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।

বর্তমানে তিনি ব্র্যাকে কর্মরত রয়েছেন। আগের তুলনায় তাঁর আয় বেড়েছে। নিজের উপার্জনের মাধ্যমে পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছেন।

স্বামীও বর্তমানে কর্মজীবনে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। ফলে অতীতের আর্থিক সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে তাঁদের পরিবার।

মাতৃত্ব ও কর্মজীবন দুই দায়িত্বেই রত্না

উম্মে হাবিবা রত্না এখন দুই সন্তানের মা। বড় ছেলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে। ছোট ছেলের বয়স তিন বছর।

প্রতিদিনের জীবনে তাঁকে সামলাতে হয় নানা দায়িত্ব। সন্তানদের লালন-পালন, তাদের পড়াশোনা ও যত্ন, সংসারের প্রয়োজনীয় কাজ এবং কর্মস্থলের দায়িত্ব সবকিছুর মধ্যে সমন্বয় করে চলছেন তিনি।

স্বামী, দুই সন্তান ও শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে তাঁর বর্তমান সংসার।

রত্না বলেন, একজন নারীর সফলতার পেছনে নিজের পরিশ্রমের পাশাপাশি পরিবারের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে স্বামীর উৎসাহ ও সহযোগিতা তাঁর শিক্ষাজীবন এবং কর্মজীবন এগিয়ে নিতে সহায়ক হয়েছে।

তিনি মনে করেন, সংসারের দায়িত্ব শুধু নারীর একার নয়। পারস্পরিক সহযোগিতা ও শ্রদ্ধাবোধ থাকলে একজন নারীও নিজের মেধা ও যোগ্যতা বিকাশের সুযোগ পান।

বিয়ে কিংবা মাতৃত্ব নারীর স্বপ্নপূরণের বাধা হওয়া উচিত নয়

নিজের জীবনসংগ্রামের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে উম্মে হাবিবা রত্না জানান, বিয়ের পর স্বামীর চাকরি হারানোয় তাঁদের সংসারে কঠিন সময় নেমে এসেছিল। আর্থিক সংকটের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও তিনি শিক্ষার স্বপ্ন ছাড়েননি। নিজের চেষ্টা এবং পরিবারের সহযোগিতায় উচ্চমাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন।

রত্না আরও বলেন, বিয়ে কিংবা মাতৃত্ব কোনো নারীর শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি হওয়া উচিত নয়। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও চেষ্টা চালিয়ে গেলে একজন নারী নিজের অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারেন।

গ্রামীণ নারীদের প্রতি তাঁর আহ্বান, নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। শিক্ষা অর্জন ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদেরও নারীদের শিক্ষার সুযোগ ও কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
  • © স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ নড়াইলের কাগজ
পরিক্ষামূলক সম্প্রচার
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park