
মোশারেফ আহবায়ক, কামরুল সদস্য নির্বাচিত
লিজ বাতিল করুন, বন্ধকৃত পাটকল রাষ্ট্রীয়ভাবে খুলে দিন
——————- মুনীর চৌধুরী সোহেল
খালিশপুর থানা কমিটি গঠন উপলক্ষে গণসংহতি আন্দোলন খালিশপুর থানার উদ্যোগে
২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের ক্রিসেন্ট জুটমিলে এক কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রমিকনেতা মোঃ মোশারেফ হোসেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলন খুলনা জেলা কমিটির আহবায়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা যুগ্ম আহবায়ক মোঃ অলিয়ার রহমাান শেখ। সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন শেখ, গণসংহতি আন্দোলন থানা সদস্য কামরুল হোসেন, খাদিজা খাতুন প্রমুখ। কর্মীসভায় প্রধান অতিথি মুনীর চৌধুরী সোহেল বলেন, গত ২ জুলাই ২০২০ তারিখে করোনা মহামারির সময়ে বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একযোগে খুলনা অঞ্চলের ৯টি পাটকলসহ সারাদেশের ২৬টি পাটকল লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে বন্ধ ঘোষণা করেন। পাটকল বন্ধের ফলে প্রায় ৭০হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবারসহ পাটসংশ্লিষ্ট প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষ বেকার হয়ে পড়েন। আকষ্মিক বন্ধের ফলে পাটকলশ্রমিকদের জীবন-জীবিকা স্থবির হয়ে যায়। পরিকল্পিতভাবে বিগত সরকার শ্রমিকদের রাস্তায় ছড়ে ফেলে দিয়েছে। ফলশ্রæতিতে শ্রমিকদের পিতা-মাতা এবং তাদের স্ত্রী-সন্তানদের মুখে ভাত দেয়া বন্ধ হবার উপক্রম হয়। পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা ও ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে বয়স্ক যায়। শ্রমিকরা তখন তাদের কর্মস্থল থেকে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়। দু’মুঠো খাবারের জন্য, চাকরী ফিরে পাবার আশায় রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে বাধ্য হয়।
তিনি আরো বলেন, পাটকলসহ বন্ধ সকল রাষ্ট্রীয় কলকারখানা দুর্নীতি ও লুটপাটমুক্ত করে আধুনিকায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চালু, শ্রমিকদের সকল পাওনা সঠিক হিসাব অনুযায়ী প্রদান, মাথাভারি প্রশাসন ও দুর্নীতিযুক্ত বিজেএমসির সংস্কার করাসহ তৎকালীন মন্ত্রী, সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দুর্নীতির তদন্ত ও বিচার, যে সকল রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল লিজ দেয়া হয়েছে এবং প্রক্রিয়াধীন আছে সেগুলো বাতিল, ২০১০ সালের ম্যান্ডেটরি প্যাকেজিং এক্ট কার্যকর, কাঁচাপাট সরাসরি রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা, আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মিল কর্তৃক যে সকল ফৌজদারি মামলা রয়েছে সেগুলো প্রত্যাহার এবং খুলনায় আন্দোলন চলাকালীন শ্রমিক ও নাগরিক নেতৃবৃন্দের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। সভা শেষে মোঃ মোশারেফ হোসেনকে আহবায়ক, কামরুল হোসেনকে সদস্য সচিব করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট খালিশপুর থানা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, যুগ্ম আহবায়কদ্বয় মোঃ সুমন, খাদিজা খাতুন, সদস্য হুমায়ুন কবীর, মোঃ সিরাজুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, মোঃ সেলিম, নাসির হোসেন, আনোয়ারা বেগম, রোজিনা বেগম, গোলাম কিবরিয়া। অবশিষ্ট ৩জন সদস্যকে পরবর্তীতে থানা কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করা হবে।