
বর্ষার শীতল ছোঁয়ায় প্রাণের উচ্ছ্বাস নিয়ে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী বাড্ডা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো বর্ষাবরণ উৎসব। আলোচনা, আবৃত্তি, সমবেত ও একক সঙ্গীত, নৃত্য এবং যন্ত্রসঙ্গীতের মেলবন্ধনে সাজানো এই আয়োজন উপস্থিত দর্শকদের মাঝে ছড়িয়ে দেয় প্রাণবন্ত আবহ ।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহিদা ফাল্গুনী, শান্তনু কুমার দাস এবং এ এন রাশেদা। তাঁরা বর্ষা ঋতুর সামাজিক, কৃষিভিত্তিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন, পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় উদীচীর চলমান আন্দোলনের কথাও উল্লেখ করেন ।
আবৃত্তি পর্বে সানাম খান, শাহিদা ফাল্গুনী, সৈয়দা রত্না, নজরুল করিম এবং শিখা সেন গুপ্তা কবিতার মাধ্যমে বর্ষার রূপময়তা ফুটিয়ে তোলেন। সমবেত সঙ্গীতে ১৫ শিল্পীর কণ্ঠে ধ্বনিত হয় বর্ষার গান, যেখানে অংশ নেন কাকন, দোলন, সমরিতা, সুচিত্রা রানি, সোহাগ ধর, জুথি রানি সরকার, অরুনিমা প্রথমা, রায়হান, ফুলন কুমার সেন, হিরা মনি প্রমুখ। একক সঙ্গীত পর্বে কুন্তলা, মানহা, তানহা, রয় দেবযানী, সেরীন জান্নাত প্রিয়ন্তি, ফিরজা খাতুন, মুক্তা মন্ডল এবং পলাশ শীলের কণ্ঠে বর্ষার মৌসুমী সুর শোনা যায় ।

নৃত্য বিভাগের শুচিস্মিতা মহানায়কের তত্ত্বাবধানে আফরিন, আলিয়া ও ওরিয়া মঞ্চে ফুটিয়ে তোলেন বর্ষার নান্দনিকতা। যন্ত্রসঙ্গীত বিভাগে পলাশ শীল (দোতারা), রিপন মন্ডল (বেহালা) এবং পবিত্র আচার্য (তবলা) তাদের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন ।
সঙ্গীত বিভাগের সম্পাদক মীর হেদায়েতুল বাকি এবং নৃত্য বিভাগের শুচিস্মিতা মহানায়কের পরিচালনায় এই আয়োজন পরিপূর্ণতা পায়। উপস্থাপনায় ছিলেন বাড্ডা শাখার সাধারণ সম্পাদক সরদার আব্দুল করিম এবং সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়। এছাড়াও আলামিন আজাদ, অপু সরকার, নসরু কামাল খান, হারুনার রশিদসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ।
উদীচীর এই আয়োজন শুধু বর্ষাবরণই নয়, বরং প্রকৃতি ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসারই প্রকাশ ঘটিয়েছে ।