
পরীক্ষামূলকভাবে মাত্র ১০ শতক জমিতে সুপার হট জাতের মরিচ চাষ শুরু করেছিলেন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষক কামাল শেখ। কৃষি অফিসের দেওয়া উন্নত জাতের বীজ দিয়ে শুরু করা সেই আবাদ এখন তাঁর কাছে বাড়তি আয়ের সম্ভাবনার নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের চুপাইর ব্লকের ছৈলাদি গ্রামের এই কৃষক দীর্ঘদিন ধরেই কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন ফসল চাষের পাশাপাশি এবার নতুন জাতের মরিচ আবাদ করে পেয়েছেন আশাব্যঞ্জক ফলন। বাজারে মরিচের ভালো দাম ও চাহিদা থাকায় তাঁর আগ্রহও বেড়েছে।
প্রতিদিন সকালেই মরিচখেতে ছুটে যান কামাল শেখ। আগাছা পরিষ্কার, গাছের পরিচর্যা, রোগবালাই পর্যবেক্ষণসহ নানা কাজে ব্যস্ত সময় কাটে তাঁর। পাশাপাশি জমি থেকে কাঁচা ও পাকা মরিচ সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন তিনি।
কামাল শেখ বলেন, “আমি কৃষির মানুষ। নতুন কিছু শিখে জমিতে কাজে লাগাতে পারলে সেটাই আমার কাছে বড় পাওয়া। কৃষি অফিসের সহযোগিতায় সুপার হট মরিচ চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি এবং বাজারেও ভালো দাম পাচ্ছি। এতে আমি উৎসাহিত হয়েছি। আগামী বছর আরও বড় পরিসরে মরিচ চাষ করতে চাই।”
মাত্র ১০ শতক জমিতে উন্নত জাতের মরিচের ভালো ফলন দেখে আশপাশের কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই তাঁর জমিতে এসে চাষপদ্ধতি, পরিচর্যা ও ফলন সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন।
উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, প্রদর্শনী প্লটের উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের সামনে উন্নত জাত ও আধুনিক প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ তুলে ধরা। কামাল শেখের জমিতে সুপার হট মরিচের ভালো ফলন হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক পরিচর্যার বিষয়ে তাঁকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কামাল শেখের জমিতে সুপার হট জাতের মরিচের প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের উন্নত জাতের মরিচ চাষ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে বাস্তব ধারণা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদী বলেন, কৃষকের জমিতে সফল প্রদর্শনী তৈরি হলে সেটিই অন্য কৃষকদের জন্য কার্যকর উদাহরণ হয়ে ওঠে। কামাল শেখের জমিতে ভালো ফলন ও বাজারমূল্য পাওয়া ইতিবাচক। কৃষকদের চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় উন্নত জাতের মসলাজাতীয় ফসলের আবাদ বাড়াতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হবে।
কৃষক কামাল শেখের ১০ শতকের মরিচখেত এখন শুধু একটি প্রদর্শনী প্লট নয়, বরং স্থানীয় কৃষকদের জন্য সম্ভাবনার একটি উদাহরণ। অল্প জমিতে উন্নত জাতের ফসল চাষ করে উৎপাদন ও আয় বাড়ানোর সুযোগ দেখে আগামী মৌসুমে আরও বড় পরিসরে মরিচ চাষের পরিকল্পনা করছেন তিনি।