কৃষকরা জানান, ঘেরের পাড়ের জমি কাজে লাগিয়ে বাড়তি আয় করার পরিকল্পনা থেকেই তারা তরমুজ চাষের উদ্যোগ নেন। পার্টনার ফিল্ড স্কুল প্রোগ্রামের মাধ্যমে পাওয়া পরামর্শ ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করে এক একর জমিতে ৫০০টি তরমুজের চারা রোপণ করেন তারা।চাষের শুরু থেকেই গাছের পরিচর্যা, সেচ, জৈব সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি GAP অনুসরণ করে নিরাপদ ও মানসম্মত উৎপাদনের দিকে নজর রাখেন তারা। পরিচর্যার পর ক্ষেতের তরমুজ পরিপক্ব হলে তা বাজারজাত করেন।
তরমুজ বিক্রি করে উৎপাদন খরচ বাদ দেওয়ার পর প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। এতে মাছ চাষের পাশাপাশি একই ঘেরের পাড় থেকে বাড়তি আয় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ডালিম শেখ বলেন, ঘেরের পাড়ের জমি আগে এভাবে কাজে লাগানো হয়নি। তরমুজ চাষ করে ভালো ফলন ও লাভ পাওয়ায় আমরা উৎসাহিত হয়েছি। সঠিক পরামর্শ ও পরিচর্যা থাকলে ঘেরের পাড়েও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।
লাদেন শেখ বলেন, পার্টনার ফিল্ড স্কুল প্রোগ্রামের মাধ্যমে GAP পদ্ধতিতে চাষের বিষয়ে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। সেই পরামর্শ অনুযায়ী তরমুজের পরিচর্যা করেছি। ফলন ও লাভ দুটোই ভালো হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট।

স্থানীয় মিঠুন দাস জানান, মাছের ঘেরের পাড়ের জমি অনেক সময় অনাবাদি পড়ে থাকে। সেখানে তরমুজ, সবজি বা অন্যান্য ফসল চাষ করা গেলে একই জমি থেকে একাধিকভাবে আয় করা সম্ভব। ডালিম শেখ ও লাদেন শেখের উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের জন্য এর একটি ভালো উদাহরণ হতে পারে।
ডালিম শেখ ও লাদেন শেখের এই সফলতা দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও ঘেরের পাড়ে তরমুজসহ বিভিন্ন লাভজনক ফসল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি অব্যবহৃত জমিকে উৎপাদনশীল করে তোলার এ উদ্যোগ স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘেরের পাড়ের জমিতে তরমুজসহ উচ্চমূল্যের ফসল চাষ করে কৃষক বাড়তি আয় করতে পারেন। ডালিম শেখ ও লাদেন শেখের GAP অনুসরণ করে তরমুজ চাষ কৃষিতে বহুমুখীকরণের ভালো উদাহরণ। সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে এ ধরনের চাষ আরও লাভজনক হতে পারে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।