
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান চাইলেও হামলা অব্যাহত থাকলে কঠোর জবাব দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, শনিবার (৭ মার্চ) এর আগে সৌদি আরব ইরানের কাছে একটি বার্তা পাঠায়। এতে বলা হয়, ইরান যদি সৌদি ভূখণ্ড ও জ্বালানি খাতে হামলা চালানো অব্যাহত রাখে, তবে সৌদি আরবও পাল্টা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।
এর পরপরই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে কোনো হামলা না হলে ইরানও পাল্টা হামলা চালাবে না। একই সঙ্গে তিনি উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ইরানের চালানো হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
এর দুই দিন আগে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এ সময় সৌদি আরব তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সূত্রের দাবি, সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে যেকোনো ধরনের মধ্যস্থতাকে স্বাগত জানায় এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে। একই সঙ্গে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সৌদি আরব বা অন্য কোনো উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলার জন্য তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয়নি।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সৌদি ভূখণ্ড বা জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইরানের হামলা চলতে থাকে, তাহলে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে বাধ্য হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকলে রিয়াদও পাল্টা আঘাত হানতে পারে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই সৌদি আরব তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি ও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধে কোনো সমঝোতায় রাজি না হওয়ায় সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, যুদ্ধ তখনই শেষ হতে পারে যখন ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে বা দেশটির নেতৃত্ব ক্ষমতায় থাকবে না।
সংঘাতের অষ্টম দিনে শনিবার (৭ মার্চ) প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজ এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সম্ভাব্য সব নেতা নিহত হয়ে গেলে বা দেশটির সামরিক শক্তি ধ্বংস হয়ে গেলে আলোচনার আর কোনো প্রশ্নই থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, এমন পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে যখন আত্মসমর্পণের ঘোষণা দেওয়ার মতো কেউই আর অবশিষ্ট থাকবে না।
সূত্র: রয়টার্স