ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় দেখা দিচ্ছে। তরুণ নেতৃত্বের নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এক সময় বিএনপির সঙ্গে জোট বা আসন সমঝোতার পথে এগোতে চেয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দলটি নির্বাচনী মাঠে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে—এনসিপির সঙ্গে এখন জোটের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে জামায়াতের দিকে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, সম্প্রতি জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এনসিপির প্রতিনিধিদল একাধিক বৈঠক করেছে। সেখানে নির্বাচনী কৌশল, আসন বণ্টন এবং নীতিগত অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে আলোচনা চূড়ান্ত না হলেও দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এনসিপি অন্তত ৩০ থেকে ৫০টি আসন পেতে চায়, যা নিয়ে আলোচনার ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
এনসিপির এক সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক বিকল্প ও কৌশল যাচাই করে আমরা আমাদের অবস্থান চূড়ান্ত করছি। জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে, যা দলকে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় সুবিধা দিতে পারে। আসন সমঝোতা হলেও এনসিপি নিজের প্রতীক ‘শাপলা কলি’ ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশ নেবে।
এনসিপি প্রথম পর্যায়ে ১২৫টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৪০–৫০টি আসনে তালিকা চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। নতুন সম্ভাব্য জোটে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা হলে দলের শীর্ষ নেতাদের কিছু আসনে পরিবর্তনও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দলটি যুবক নেতৃত্বের নিরাপত্তা, নির্বাচনী কৌশল এবং আসন বণ্টনকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তী পরিকল্পনা তৈরি করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন করলে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে এবং বিএনপির সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত এড়িয়ে গিয়ে নির্বাচনে সুবিধা পেতে পারবে। পাশাপাশি জোটের মাধ্যমে দলটি বিদ্রোহী প্রার্থী চ্যালেঞ্জ ও অপ্রত্যাশিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে।
এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, দলটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের ঘোষণা দেয়নি। তবে রাজনৈতিক আলোচনার ধারা অব্যাহত রয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা হতে পারে।