
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানাধীন জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ২২ বছর বয়সী তরুণ মো. ছাব্বির খান। তাঁর এমন ঘোষণাকে ঘিরে ইউনিয়ন জুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
বিশেষ করে এত অল্প বয়সে তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় তাঁর আইনগত যোগ্যতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা ও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ছাব্বির খান জয়নগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গাছবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। সম্প্রতি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহের কথা জানান। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার কারণ জানতে চাইলে ছাব্বির খান বলেন, জন্মের পর থেকে তিনি ইউনিয়ন পরিষদে কয়েকজন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে দেখেছেন। বিভিন্ন প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে সাধারণ মানুষের নানা ধরনের সমস্যাও প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁর দাবি, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই তিনি নির্বাচনে আসতে চান।
ছাব্বির খানের মতে, বর্তমান সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম অনেকটাই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সরকারি নথি, আবেদন ও সনদপত্রে ইংরেজি ভাষার ব্যবহারও রয়েছে। এসব বিষয় সঠিকভাবে বুঝতে চেয়ারম্যানের আধুনিক শিক্ষাগত জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেই একজন জনপ্রতিনিধি সফল হন না; জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, তাঁদের সমস্যা শোনা, প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা এবং দ্রুত সেবা দেওয়ার মানসিকতাও প্রয়োজন।
ছাব্বির খান আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ হচ্ছে জনগণের সবচেয়ে কাছের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। তাই সেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চান তিনি। একই সঙ্গে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই তরুণ।
তাঁর ভাষ্য, তরুণ প্রজন্মকে শুধু ভোটার হিসেবে নয়, নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও সুযোগ দেওয়া উচিত। তরুণদের আধুনিক চিন্তাভাবনা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন ধরনের নেতৃত্ব তৈরি করা সম্ভব।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিভিন্ন কাজে মানুষের সাথে থেকেছেন ছাব্বির খান। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সেবা ও সমস্যার বিষয়ে তিনি খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করে মানুষের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন।
তবে ২২ বছর বয়সে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় তাঁর আইনগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, তরুণ বয়সে নেতৃত্বের আগ্রহ অবশ্যই ইতিবাচক; তবে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও নির্বাচন সংক্রান্ত বিধিমালায় নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করতে হবে।
স্থানীয়দের মধ্যে কেউ ছাব্বির খানের উদ্যোগকে তরুণ নেতৃত্বের সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ মনে করছেন, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বয়সের পাশাপাশি প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক এবং দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
ছাব্বির খানের প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা এবং ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনায় আধুনিক শিক্ষাগত জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাঁর বক্তব্য ইতোমধ্যে জয়নগর ইউনিয়নে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আইনগত যোগ্যতা পূরণ করতে পারবেন কি না এবং ভোটাররা তাঁর তরুণ নেতৃত্বকে কীভাবে গ্রহণ করবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়া পর্যন্ত।