
যশোরের শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের মানুষের কল্যাণ ও এলাকার উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন কায়বা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো.শহিদুল ইসলাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা জানিয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
শহিদুল ইসলাম জানান,নির্বাচিত হলে দল-মতনির্বিশেষে ইউনিয়নের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য কাজ করবেন। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা, কবরস্থান ও সামাজিক অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাকে তিনি অগ্রাধিকার দিতে চান।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কায়বা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট সংস্কার, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে শহিদুল ইসলাম সহযোগিতা করে আসছেন। মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা শোনেন বলেও স্থানীয় কয়েকজন জানান।
রাজনীতিতে শহিদুল ইসলামের সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ সালের এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। পরে কায়বা ইউনিয়ন যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে কায়বা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০০৮ সালে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৮ সালে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন বলে জানান তিনি। ২০২৫ সালে কায়বা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার কথাও জানান।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন সময় হামলা, মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন শহিদুল ইসলাম।
রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত থাকার দাবি করেন শহিদুল ইসলাম। তাঁর নিজ গ্রাম ভবানীপুরে একটি হাফিজিয়া ও একটি নূরানী ক্যাডেট মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার কথা জানান তিনি। হাফিজিয়া মাদ্রাসায় প্রায় ৬৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং কয়েকজন শিক্ষকের বেতন নিজ অর্থায়নে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
শহিদুল ইসলামের বড় ভাই প্রয়াত নুর ইসলাম বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির শুরুর দিকের কর্মী ছিলেন বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, নুর ইসলাম ১৯৮২ সালে কায়বা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আরেক ভাই রুহুল কুদ্দুস ২০১১ সালে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার কারণ সম্পর্কে শহিদুল ইসলাম বলেন, “কায়বা ইউনিয়নকে বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। দল-মতনির্বিশেষে সব মানুষের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”
দলীয় মনোনয়ন পেলে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি
আরও বলেন, “উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাও উন্নয়নের অংশ। জনগণের সহযোগিতা ও ভালোবাসা নিয়ে কায়বাকে একটি সুন্দর ও আধুনিক ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে কায়বা ইউনিয়নের মানুষের শান্তি ও কল্যাণে কাজ করতে চান তিনি।