
দানবীর ফাজেল আহমদ মোল্লা
***************************
মিঠুয়ার রহমান
শস্য শ্যামল পুষ্পে ভরা এই পিরোলী গ্রামে,
একদা ছিল পরিচিত শুধুই সুনামে,,,,,,,,,।
জারি সারি যাত্রা পালা মাঝি মাল্লার গান,
সাদা মনের মানুষ শুনে জুড়াইত প্রাণ,,,,।
সেই গাঁয়েরই মোল্লা বংশ খুবই নামকরা,
হাজী নৈমুদ্দিন ছিলেন জানে বসুন্ধরা।।
আঠারোশ আটাত্তরে নৈমুদ্দিনের ঘরে,
ফাজেল আহমদ জন্মিলেন ভুবন আলো করে।
বংশগতির কারণে ছিলো না তার অভাব,
গরীব দুঃখির সেবা করাই ছিলো যে তার স্বভাব।
নৌকা ছিলো অগনিত হাজার একর জমি ,,,,,
সাদা মনের মানুষ ছিলেন জানেন অন্তরজামি।
উনিশশত সাতাশ সনে গাজিরহাট গ্রামে,
গড়ে তোলেন হাই স্কুল নৈমুদিন নামে।।
হাট বসালেন পিরোলীতে বংশের দেয়া ভিটায়,
নড়াইলে মুসলিম হোস্টেল মনের আয়েশ মিটায়।
ছিলেন শিক্ষা অনুরাগী ক্ষণজন্মা লোক,
যোগাযোগ ব্যবস্থায় ছিলো রাস্তার প্রতি ঝোঁক।
জমির পরে জমি কেনা ছিলো না যে সস্তা,
পিরোলী টু ফুলতলা করলেন বিখ্যাত সেই রাস্তা ।
ফাজেল মোল্লার রাস্তা বলে সকল লোকে চেনে,
কিংবদন্তী সমাজ সেবক সকলে তা জানে।।
সমাজ সেবায় ছিলেন তিনি অতি গুণীজন,
তাইতো আজও বাসি ভালো দিয়ে মনো প্রাণ।
হাবিবুল আলম বীরপ্রতীক তারই উত্তরসুরী
স্কুল কলেজ রাস্তা মসজিদ করলেন ভুরি ভুরি।
ফাজেল আহমদ বিদ্যালয়টি তারই নামে করা,
বিদ্যালয়টির সুনাম এখন সারা দেশে ভরা।
জহুরুল হক আবু হানিফ উজালা নিজেলা,
ধলাছুটু কালাছুটু চান্দা আনোয়ারা।।।।।।।
ছোট খোকা বড়ো খোকা আরো মেহেরজান,
সবাই মিলে বাড়ালো এই দানবীরের মান।
মুক্তি যুদ্ধেও আছে বংশের বিরাট অবদান,
হাবিবুল আলম বীরপ্রতীক তারই প্রমাণ।।
স্বজনেরা দেশ বিদেশে ছড়ায় আলোর দিশা,
আমাদের খুব পরিচিত ইমরানুল হক মিশা।
কীর্তিমানের মৃত্যু নাই ইতিহাস তাই বলে,
উনিশশত তেত্রিশ সনে তিনি গেলেন চলে।
পঞ্চান্ন বছর বয়সে করলেন মহাযজ্ঞ,
আমরা আজও আছি তার বিষয়ে অজ্ঞ।
গবেষণা করা উচিত তাকে নিয়ে আরো,
মাথা ব্যাথা নেই যেনো তার বিষয়ে কারো।
দোয়া করি রবের কাছে ফাজেল মোল্লার তরে,
শান্তি সুখে ভালো থাকুন কবর দেশের ঘরে।