1. narailerkagoj@gmail.com : admin :
  2. habibabrac1995@gmail.com : Delowar@1999 :
  3. kalamsarder3@gmail.com : Kalam Sarder : Kalam Sarder
  4. tajiburs.tr@gmail.com : tajiburnarail :
  5. tanjimsheikh.mail@gmail.com : tanjim Sheikh : tanjim Sheikh
প্রাথমিক শিক্ষার মান: শিক্ষকের অভিজ্ঞতা ও কিছু রূঢ় বাস্তবতা - নড়াইলের কাগজ
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

প্রাথমিক শিক্ষার মান: শিক্ষকের অভিজ্ঞতা ও কিছু রূঢ় বাস্তবতা

নড়াইলের কাগজ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১১৬ বার পঠিত

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড—এই চিরন্তন সত্যটি আমরা শৈশব থেকে পড়ে আসছি। আর সেই মেরুদণ্ড গঠনের মূল কারিগর হলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। কিন্তু মাঠপর্যায়ে দীর্ঘ এক যুগের শিক্ষকতা এবং শত শত সহকর্মীর সাথে নিবিড় যোগাযোগের অভিজ্ঞতায় আজ একটি প্রশ্ন মনে ভেসে ওঠে —আমরা কি সত্যিই আমাদের সন্তানদের মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা দিতে পারছি? নাকি অবকাঠামোর চাকচিক্যের আড়ালে শিক্ষার মান ক্রমশ ফিকে হয়ে যাচ্ছে? একজন সহকারী শিক্ষক হিসেবে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ৪টি ভিন্ন ভিন্ন বিদ্যালয়ে কাজ করার সুযোগ আমার হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে কেবল নিজের অভিজ্ঞতাই নয়, বরং প্রায় দেড় শতাধিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে আলাপ-আলোচনা ও মতবিনিময়ের ভিত্তিতে কিছু রূঢ় সত্য আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে। আমাদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রত্যাশিত মানসম্মত পাঠদান পরিচালিত না হওয়ার পেছনে কতগুলো পদ্ধতিগত ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ দায়ী। ​প্রথমেই আসে শিক্ষকদের জীবনযাত্রার মান ও বেতন কাঠামোর প্রশ্ন। একজন শিক্ষক যখন ১৩তম গ্রেডের সীমিত বেতন দিয়ে বর্তমান বাজারমূল্যের সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকার চেষ্টা করেন, তখন তার পক্ষে ক্লাসরুমে পূর্ণ সৃজনশীলতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। আর্থিক অনিশ্চয়তা কেবল একজন ব্যক্তির সমস্যা নয়, এটি সরাসরি প্রভাব ফেলে তার পাঠদানের একাগ্রতায়। মেধাবীরা যখন এই পেশাকে কেবল ‘শেষ আশ্রয়’ হিসেবে বেছে নেয়, তখন দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া স্বাভাবিক। ​দ্বিতীয়ত, আমরা প্রায়ই শিক্ষক সংকটের কথা শুনি। একটি বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকলে একজন শিক্ষককে বিরতিহীনভাবে একাধিক ক্লাস নিতে হয়। ফলে প্রতিটি ক্লাসের জন্য আলাদা ‘লেসন প্ল্যান’ বা প্রস্তুতি নেওয়ার মানসিক ও শারীরিক শক্তি তারা হারিয়ে ফেলেন। অতিরিক্ত কাজের চাপে শিক্ষকরা অনেক সময় নিছক ‘সিলেবাস শেষ করার’ যন্ত্রে পরিণত হন। ​সবচেয়ে সংবেদনশীল যে বিষয়টি মাঠপর্যায়ে লক্ষ্য করা যায়, তা হলো প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষকরা নিজেদের কেবল ‘আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা’ বা প্রশাসনিক প্রশাসক মনে করেন। পাঠদান যে তাদেরও প্রধান দায়িত্বের একটি, তা অনেক সময় গৌণ হয়ে পড়ে। একজন প্রধান শিক্ষকের মূল ভূমিকা হওয়া উচিত ছিল ‘একাডেমিক লিডার’ বা দিকনির্দেশক হিসেবে সহকারী শিক্ষকদের অনুপ্রাণিত করা। কিন্তু প্রশাসনিক ফাইলের স্তূপ আর দাপ্তরিক কাজের দোহাই দিয়ে তারা অনেক সময় পাঠদান থেকে দূরে থাকেন, যা পুরো বিদ্যালয়ের শিখন পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ​এর বাইরে রয়েছে অভিভাবকদের সচেতনতার অভাব। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় অনেক অভিভাবক মনে করেন, সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে দেওয়াই তাদের শেষ দায়িত্ব। বাড়িতে শিক্ষার্থীর পড়ার তদারকি বা শিক্ষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ না থাকায় শিক্ষার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। ​আমরা এখন ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। কিন্তু এই স্বপ্নের ভিত্তি হতে হবে একটি শক্তিশালী প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। কেবল নতুন ভবন বা উন্নত প্রযুক্তির সরঞ্জাম দিলেই শিক্ষার মান বাড়বে না, যদি না শিক্ষকের মানসিক তুষ্টি ও প্রশাসনিক সহযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়। ​সময় এসেছে নীতিনির্ধারকদের এই বিষয়গুলো নিয়ে পুনরায় ভাবার। শিক্ষকদের জন্য সম্মানজনক বেতন কাঠামো, প্রশাসনিক কাজের জন্য আলাদা অফিস সহকারী নিয়োগ এবং প্রধান শিক্ষকদের একাডেমি লিডার হিসেবে গড়ে তোলার প্রশিক্ষণ আজ সময়ের দাবি। তবেই আমাদের গ্রাম-গঞ্জের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো থেকে প্রকৃত অর্থেই শিক্ষিত ও দক্ষ আগামী প্রজন্ম গড়ে উঠবে। ইনশাআল্লাহ।

মোঃ তাজিবুর রহমান

সহকারী শিক্ষক

সরকারি প্রাথমিক বিদ‌্যালয়

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
  • © স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ নড়াইলের কাগজ
পরিক্ষামূলক সম্প্রচার
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park