
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে রোমাঞ্চকর জয়ের মধ্য দিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ১১ রানের জয় পায় স্বাগতিকরা।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১২ রান। দ্বিতীয় বলেই ম্যাচ শেষ হয়ে যেতে পারত। রিশাদ হোসেনের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। তবে ক্যাচটি নিতে পারেননি রিশাদ। তাতে ম্যাচের উত্তেজনা কিছুটা বাড়লেও শেষ বলে শাহিন স্টাম্পড আউট হলে পাকিস্তানের ইনিংস থামে ২৭৯ রানে। ফলে ১১ রানের জয় পায় বাংলাদেশ।
২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার দাপুটে বোলিংয়ে মাত্র ১৭ রানেই তিন উইকেট হারায় সফরকারীরা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তাসকিন ফেরান সাহিবজাদা ফারহানকে (৬)। পরের ওভারে নাহিদ রানা আউট করেন মাজ সাদাকাতকে (৬)। এরপর নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে (৪) সাজঘরে ফেরান তাসকিন।
এরপর গাজি ঘুরি ও আব্দুল সামাদ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ঘুরি ৩৯ বলে ২৯ এবং সামাদ ৪৫ বলে ৩৪ রান করে আউট হন।
দলের কঠিন সময়ে হাল ধরেন সালমান আলি আগা। তাকে সঙ্গ দেন অভিষিক্ত ব্যাটার সাদ মাসুদ। দুজন মিলে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়লেও মাসুদ ৩৮ রানে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে বোল্ড হন। এরপর ফাহিম আশরাফও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, তাসকিনের বলে বোল্ড হয়ে ৯ রান করে ফেরেন।
তবে একপ্রান্তে দৃঢ়ভাবে লড়াই চালিয়ে যান সালমান আলি আগা। তিনি দারুণ একটি শতক তুলে নিয়ে দলকে জয়ের আশা দেখান। শেষ পর্যন্ত তাসকিনের বলে ১০৬ রানে আউট হন তিনি।
শেষদিকে শাহিন শাহ আফ্রিদি ৪৯তম ওভারে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে পাকিস্তানকে আবারও ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বোলারদের দৃঢ়তায় জয়ের মুখ দেখতে পারেনি সফরকারীরা।
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন তাসকিন আহমেদ। তিনি চারটি উইকেট নেন। মুস্তাফিজুর রহমান তিনটি, নাহিদ রানা দুটি এবং রিশাদ হোসেন একটি উইকেট শিকার করেন।
এর আগে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে আমন্ত্রণ জানায় পাকিস্তান। ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় স্বাগতিকরা। ওপেনিং জুটিতে আসে ১০৫ রান। ইনিংসের ১৯তম ওভারে শাহিন আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে ৩৬ রান করে ফেরেন সাইফ হাসান।
অন্য ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্তও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। হারিস রউফের বলে আউট হওয়ার আগে তিনি করেন ২৭ রান।
তবে দিনটি ছিল ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের। দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। ১০৭ বলে ১০৭ রান করেন তামিম। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৭টি ছক্কা।
এরপর লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয় চতুর্থ উইকেটে ৬৮ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে নেন। লিটন ৪১ রান করে আউট হলেও তাওহীদ হৃদয় ৪৮ রানে অপরাজিত থাকেন। আফিফ হোসেন ৫ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন।
নির্ধারিত ৫০ ওভারে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ২৯০ রান।
পাকিস্তানের হয়ে হারিস রউফ তিনটি উইকেট নেন। এছাড়া আবরার ও শাহিন শাহ আফ্রিদি একটি করে উইকেট শিকার করেন।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে টানা দ্বিতীয়বারের মতো জয় পেল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল টাইগাররা।