
মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী
নিজস্ব সংবাদদাতা
জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী চূড়ান্ত, বিএনপিতে কোন্দল ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তুঙ্গে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নড়াইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় আগেভাগেই নির্বাচনী মাঠ গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)।
জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত
নড়াইল জেলার দুটি আসনেই জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। নড়াইল-০২ আসনে এনপিপিও মনোনয়ন দিয়েছে তাদের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে।
বিএনপিতে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রতিযোগিতা
বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে মনোনয়ন না দিলেও দলটির একাধিক নেতাকর্মী নিজ নিজ উদ্যোগে প্রচারে নেমেছেন। উঠান বৈঠক, মতবিনিময় সভা, লিফলেট বিতরণ, ব্যানার-পোস্টার লাগানোসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়াতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন।
নড়াইল-০১ আসনে অন্তত ছয়জন ও নড়াইল-০২ আসনে নয়জন বিএনপি নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
নড়াইল-০১: সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা
কালিয়া উপজেলা ও সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নড়াইল-০১ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন:
বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম (জেলা বিএনপির সভাপতি)
লে. কর্নেল (অব.) সাজ্জাদ হোসেন
জহিরুল ইসলাম জহির (যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি)
আব্দুল লতিফ সম্রাট
ডা. শফিকুল হায়দার পারভেজ
অধ্যাপক বি এম নাগিব হোসেন
এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ কায়সার এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল আজিজ।
নড়াইল-০২: প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভিড়
নড়াইল-০২ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন:
মো. মনিরুল ইসলাম (জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক)
মো. জুলফিকার আলী
অ্যাড. নেওয়াজ আহম্মদ ঠাকুর নজরুল
অশোক কুন্ডু
আলী হাসান
শাহরিয়ার রিজভী জর্জ
এম জাকারিয়া
মেজর (অব.) মঞ্জুরুল ইসলাম প্রিন্স
প্রকৌশলী হিমায়েতুল ইসলাম হিমায়েত
এই আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী মোঃ আতাউর রহমান বাচ্চু এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা তাজুল ইসলাম। এনপিপির প্রার্থী অ্যাড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।
ইসলামী দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি
জামায়াতে ইসলামী দাবি করেছে, নড়াইল-০২ আসনে তাদের দেড় লাখ এবং নড়াইল-০১ আসনে ৭০ হাজার কর্মী-সমর্থক রয়েছে। ইতোমধ্যে হাটবাজার সফর, পোলিং এজেন্ট চূড়ান্তকরণসহ সাংগঠনিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।
অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলনের জেলা সেক্রেটারি এস এম নাসির উদ্দীন জানান, দুই আসনে মিলিয়ে তাদের ৫০-৬০ হাজার নিশ্চিত ভোট রয়েছে। ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করলে বড় চমক দেখাতে পারেন বলেও তিনি দাবি করেন।
বিএনপি নেতাদের বক্তব্য
জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ও সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মাঠে ছিলাম, মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। দল নিশ্চয়ই ত্যাগ ও শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। বসন্তের কোকিলরা এখন মনোনয়ন চাইছে, কিন্তু জনগণ জানে কে দলের জন্য ত্যাগ করেছেন আর কে অতিথি পাখি।”
অতীত ইতিহাস বিএনপির পক্ষে
নড়াইল-০১ ও ০২— উভয় আসনেই বিএনপি বা তাদের জোট অতীতে জয় পেয়েছে। ১৯৭৯, ১৯৯৬ (ফেব্রুয়ারি) এবং ২০০১ সালে উভয় আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছিলেন।
নড়াইলের নির্বাচনী মাঠে বর্তমানে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী দলগুলোর তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। তবে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে সংগঠিত ইসলামী দলগুলো তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় হয়ে ওঠায় নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।