
প্রতিদিন ভোর হওয়ার আগেই ঘুম ভাঙে যাদের, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে শহরের প্রতিটি অলিগলি পেরিয়ে সাইকেলে চড়ে যাঁরা খবর পৌঁছে দেন ঘরে ঘরে—তাঁরাই পত্রিকার হকার। নড়াইলে এমন ১৫ হকার আছেন, যাঁরা নিরলসভাবে এই পেশায় যুক্ত থাকলেও থাকেন সমাজের চোখের আড়ালে।
এই পেশায় নেই নির্দিষ্ট ছুটি বা মাসিক বেতন। প্রতিদিন যত কপি পত্রিকা বিক্রি হয়, সেই অনুযায়ী সামান্য কিছু টাকা রোজগার করেন তাঁরা। কোনোদিন বিক্রি কম হলে কমে যায় আয়ের পরিমাণ। অনেক হকার জানান, মাস শেষে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাঁদের।
ঈদ-পূজা বা সরকারি ছুটির দিনেও তাঁদের ছুটি নেই। প্রাকৃতিক দুর্যোগ হোক বা তীব্র গরম, প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ের আগেই পৌঁছাতে হয় পত্রিকা। বিলম্ব হলে পাঠক ক্ষোভ প্রকাশ করেন, কিন্তু কেউ ভাবেন না—এই মানুষগুলো কতটা কষ্টের মধ্যে দিয়ে কাজটি করে যাচ্ছেন।
পত্রিকা পৌঁছে দিতে গিয়ে অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হন হকাররা। শত শত পত্রিকা বহন করে এলাকাজুড়ে হেঁটে কিংবা সাইকেলে ঘুরে বেড়ানো, বয়স বাড়লেও কমে না শারীরিক পরিশ্রম। ফলে বহু হকার শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
দুঃখজনকভাবে, সমাজে অনেকেই এই পেশাকে তুচ্ছ চোখে দেখেন। অথচ এঁরাই সংবাদ প্রবাহ সচল রাখেন। তাঁদের শ্রমেই প্রতিদিন আমাদের হাতে পৌঁছে যায় দেশের খবর।
পত্রিকার হকারদের প্রতি সম্মান, কৃতজ্ঞতা ও সহানুভূতি জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কারণ, তাঁদের অবদানেই সংবাদপত্র এখনো অনেক পাঠকের প্রাত্যহিক জীবনের অঙ্গ হয়ে আছে।