
আজ অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহাবুবুল হকের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২৩ সালের ১০ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের সদস্য, স্বজন, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছেন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া প্রার্থনা করেছেন।
অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহাবুবুল হক খুলনার দৌলতপুরে অবস্থিত দৌলতপুর কলেজ (দিবা-নৈশ)-এ আশির দশকে শিক্ষকতা শুরু করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। শিক্ষকতা জীবনে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে একজন দক্ষ, মানবিক ও আদর্শ শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি তিনি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় মহম্মদ হোসেন চৌধুরী হোমিও প্যারামেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, যা তিনি তাঁর পিতার স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন।
স্বজনদের ভাষ্য, অধ্যাপক মাহাবুবুল হক ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক, প্রাণবন্ত ও রসবোধসম্পন্ন মানুষ। তিনি শুদ্ধ চলিত ভাষায় কথা বলতেন এবং তাঁর হাস্যরসপূর্ণ উপস্থাপনা ছোট-বড় সবার মন জয় করত।
আশির দশকে দৌলতপুরে তাঁর বাসভবন ছিল আত্মীয়-স্বজনদের জন্য এক নির্ভরতার ঠিকানা। বিশেষ করে তাঁর চার বোনের সন্তানরা দীর্ঘ সময় সেখানে থেকে লেখাপড়া করার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁদের অনেকেই বর্তমানে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। পরিবারের সদস্যদের মতে, আত্মীয়তার এমন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বর্তমান সমাজে খুবই বিরল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁর জীবন ছিল শিক্ষা, মানবসেবা ও পারিবারিক মূল্যবোধের এক অনন্য উদাহরণ। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁরা দেশবাসীর কাছে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া চেয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহাবুবুল হককে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।
উল্লেখ্য, তিনি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মঙ্গলপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী চৌধুরী পরিবারে ১৯৫৭ সালের ১১ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।