
নড়াইলে এক প্রবাসী স্বামীর ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতারণা, যৌতুক গ্রহণ ও মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন এক নারী। আজ রোববার বেলা ১২ টার দিকে নড়াইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এক মানববন্ধনে এসব অভিযোগ তুলে স্বামীর বিচারের দাবি করেন তিনি। ‘নারী মুক্তি সংগঠন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এসময় পরিবার সদস্য, নারী মুক্তি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।
অভিযুক্ত প্রবাসীর নাম মুজাহিদুল ইসলাম শুভ। তাঁর গ্রামের বাড়ি মাগুরার শালিখা উপজেলার মধুখালি। সে ওই গ্রামের মহিদুল ইসলামের ছেলে। তবে তাঁরা সপরিবারের দীর্ঘদিন ধরে নড়াইল শহরের ভাড়া বাড়িতে থাকেন। অন্যদিকে অভিযোগকারী স্ত্রীর নাম শোভা সুলতানা। তিনি নড়াইল সদর উপজেলার সীমাখালী গ্রামের বাবলু মোল্যার মেয়ে। ২০১৮ সালে পারিবারিকভাবে শুভ ও শোভার বিয়ে হয়।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী শোভা সুলতানা বলেন, তাঁর স্বামী শুভ বিয়ের পর থেকে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক ভবে নির্যাতন করে। বিভিন্ন সময় তাঁর স্বামী আনুমানিক ৬ লাখ টাকার মালামাল নিয়েছে এবং ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে কানাডায় যাওয়ার সময় শোভার পরিবারের পক্ষ থেকে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ১৫ লক্ষ টাকা নেয়। বিদেশ যাওয়ার পর শোভা জানতে পারে তাঁর স্বামীর অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে রয়েছে ও গুঞ্জন শোনেন ওই নারীকে তাঁর স্বামী বিয়ে করেছেন। পরে শোভা তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে নড়াইল সদর আদালতে একটি প্রতারণার মামলা করেন। এরপর মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁর স্বামী শুভ প্রবাস থেকে ফোনে হুমকি দিতে থাকেন। সর্বশেষ গত ১৬ আগস্ট বিকেলে নড়াইল শহরের চৌরাস্তা থেকে শোভাকে একা পেয়ে তাঁর শ্বশুর মহিদুল ইসলাম, শাশুড়ি ও নন্দাই হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এ ঘটনায় পরেরদিন ১৭ আগস্ট শোভা নড়াইল সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
শোভা আরও বলেন, সে বুটিক্সের ব্যবসা করত। সেই ব্যবসার সকল টাকা এবং তাঁর বাবার গরু, গাছগাছালি ও বিভিন্ন সম্পদ বিক্রি করে তাঁর স্বামী শুভকে টাকা দিয়েছিলেন। এখন শোভা ও তাঁর পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। তাঁরা এ ঘটনার সঠিক বিচার ও অপরাধীর কঠিন শাস্তি চান।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে শোভাকে যে-সব বিদেশি নম্বর থেকে তাঁর স্বামী শুভ ফোন করে হুমকি দিয়েছিল, সেসব নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করলেও তাঁর কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগের ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য জানতে হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ করলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। শোভার শ্বশুর মহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
শোভার অভিযোগটির তদন্ত করছেন নড়াইল সদর থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক মো. সেলিম। তিনি বলেন, শোভার অভিযোগটি পেয়েছি। তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।