
নড়াইল জেলা সমিতি, ঢাকার নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণ, শপথ এবং দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান রাজধানীর হোটেল সারিনা এ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নড়াইলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা, সমাজসেবী, ব্যবসায়ী, সংগঠক এবং সমিতির সদস্যরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন সমিতির আহ্বায়ক খবির উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।
এ সময় নবনির্বাচিত সভাপতি আসজাদুর রহমান মিঠুসহ ৪১ সদস্যের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা সমিতির নেতারাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে আহ্বায়ক কমিটি নবনির্বাচিত কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও হিসাব হস্তান্তর করে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ নবনির্বাচিত সভাপতি ও কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান।
সভাপতির বক্তব্যে খবির উদ্দিন আহমেদ বলেন, সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমিতির কার্যক্রম এগিয়ে এসেছে। নতুন কমিটিকে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ঢাকায় অবস্থানরত নড়াইলের শিক্ষার্থী ও তরুণদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
সদস্য সচিব শামীমা পারভীন বলেন, নড়াইল জেলা সমিতি শুধু নিবন্ধিত সদস্যদের সংগঠন নয়, এটি জেলার সব মানুষের সংগঠন। ধর্ম, বর্ণ, পেশা বা আর্থিক অবস্থার ভেদাভেদ না করে সবার পাশে দাঁড়িয়ে একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংগঠন গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
নবনির্বাচিত সভাপতি আসজাদুর রহমান মিঠু সমিতিকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি সদস্যদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে নড়াইলের মানুষের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় জানান।
প্রধান অতিথি মো. ওবায়দুর রহমান নড়াইল জেলা সমিতির বিভিন্ন সামাজিক ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনটি শিক্ষা, সমাজকল্যাণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে বৃহত্তর যশোর সমিতির উদ্যোগে ঢাকায় উচ্চশিক্ষার জন্য আগত শিক্ষার্থীদের আবাসনের লক্ষ্যে ডরমিটরি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে নির্বাচন কমিশন, আপিল বোর্ডের সদস্য এবং অনুষ্ঠানে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পরে গ্রুপ ফটো, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।