
লিচুর জন্য খ্যাত দিনাজপুরে এবার মৌসুমের শুরুতেই দেখা গেছে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। জেলার খানসামা উপজেলায় জনপ্রিয় চায়না-৩ জাতের লিচু খুচরা বাজারে প্রতি পিস ১০ থেকে ১১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে ১০০টি লিচু কিনতে ক্রেতাদের ব্যয় করতে হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা।
স্থানীয় বাজার ও বাগান সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার লিচুর উৎপাদন কম হওয়ায় বাজারে সরবরাহও সীমিত। বিশেষ করে বড় আকার, আকর্ষণীয় রং ও মিষ্টি স্বাদের কারণে চায়না-৩ জাতের লিচুর চাহিদা বেশি থাকলেও পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় দাম বেড়েছে।
চাষি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, মৌসুমের শুরুতে শিলাবৃষ্টি ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে অনেক গুটি ঝরে পড়ে। এতে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায়নি। উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাগান পর্যায় থেকেই লিচুর দাম তুলনামূলক বেশি।
উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, একসময় পরিবারের সবার জন্য সহজলভ্য মৌসুমি ফল হলেও এখন লিচু কিনতে বাড়তি খরচের মুখে পড়তে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৪৫ হেক্টর জমিতে ১৩০টি ছোট-বড় বাগানে লিচুর চাষ হয়েছে। চায়না–৩ ও মাদ্রাজি জাতের লিচু থেকে ভালো ফলনের আশা থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সামগ্রিক উৎপাদন কিছুটা কমেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বাসসকে বলেন, লিচুর মৌসুম শুরুর পর থেকেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর মাঠকর্মীরা বাগান মালিকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছেন। চৈত্র–বৈশাখে বৃষ্টি এবং জ্যৈষ্ঠ্য মাসে মাঝারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় লিচু রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, ফলে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন বৃদ্ধি না হলে এবং সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটলে মৌসুমজুড়েই লিচুর উচ্চমূল্য অব্যাহত থাকতে পারে।