
আজ ১৫ জুন, দানবীর, সাদা মনের মানুষ ও পরিছন্ন রাজনীতিবিদ মরহুম মুন্সী লাল মিয়ার ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী।
১৯৩৭ সালের ১লা মে জন্মগ্রহণকারী এই মহান ব্যক্তি ২০১৬ সালের এই দিনে ইন্তেকাল করেন। শিক্ষা প্রসার, সমাজসেবা ও সুশাসনের অগ্রদূত মুন্সী লাল মিয়াকে তার পরিবার, সহযোগী ও সাধারণ মানুষ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন।
মুন্সী লাল মিয়া ছিলেন কালিয়া উপজেলার খাশিয়াল ইউনিয়নের বারবার নির্বাচিত সফল চেয়ারম্যান এবং দেশসেরা উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে স্বীকৃত। তার আমলে খাশিয়াল ইউনিয়ন ছিল শান্তি ও সম্প্রীতির মডেল—১৫ বছর ধরে কোনো অপরাধ বা পুলিশি তৎপরতা ছাড়াই এলাকাবাসী নির্বিঘ্নে বসবাস করেছেন। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবাই তার ন্যায়বিচার ও মানবিকতায় আস্থা রাখতেন।
*শিক্ষা ও সমাজসেবায় অবদান*
শিক্ষা প্রসারে তার অবদান অবিস্মরণীয়। পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত *মুন্সী মানিক মিয়া ডিগ্রি কলেজ* আজও উচ্চশিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া বালিকা বিদ্যালয় পুনরুদ্ধার, অসংখ্য মসজিদ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা, কৃষি অফিস, পোষ্ট অফিস ও সিটি স্টোরের জন্য জমি দান—সবই তার জনহিতৈষী মানসিকতার প্রতীক। গরিব ছাত্রদের চাকরি, দুঃখীর বিয়েতে আর্থিক সহায়তা, পানচালি বন্ধে হাট মিলানোয় ভূমিকা তার দানশীলতারই স্বাক্ষর।
*রাজনৈতিক সাফল্য ও স্বীকৃতি*
মুন্সী লাল মিয়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত থেকে *দেশসেরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান* এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের কাছ থেকে *দেশসেরা উপজেলা চেয়ারম্যান* পুরস্কার লাভ করেন। ওআইসির সমাজসেবা পদক ও রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে একাধিক জাতীয় সম্মাননা তার কর্মের স্বীকৃতি।
*ব্যক্তিগত জীবনে অনন্য*
প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নিয়েও তিনি ছিলেন নিঃস্বার্থ। চার বোন, দুই ভাই, ছয় ছেলে ও চার মেয়েকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার পাশাপাশি রাজনীতিকে কলুষমুক্ত রাখার চেষ্টা করেছেন। তার চাচা আব্দুল হাকিম মিয়া পাকিস্তান আমলের মন্ত্রী ও স্পিকার, নুরুক হক মিয়া ব্রিটিশ ঋণ সালিশী বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মোজাহার উদ্দিন মিয়া খাশিয়াল ইউনিয়নের দীর্ঘকালীন চেয়ারম্যান ছিলেন।
*শ্রদ্ধাঞ্জলি ও দোয়ার আহ্বান*
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে তার রুহের মাগফিরাত কামনা ও দোয়া চেয়েছেন।