1. narailerkagoj@gmail.com : admin :
  2. habibabrac1995@gmail.com : Delowar@1999 :
  3. kalamsarder3@gmail.com : Kalam Sarder : Kalam Sarder
  4. tajiburs.tr@gmail.com : tajiburnarail :
  5. tanjimsheikh.mail@gmail.com : tanjim Sheikh : tanjim Sheikh
কলাপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভা - নড়াইলের কাগজ
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কালিয়ায় বিশ্ব হাতধোয়া দিবস পালিত, সচেতনতায় র‍্যালি চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ নারী পাবেন ফ্যামিলি কার্ড: মাহ্দী আমিন পরিবারভিত্তিক তথ্যভাণ্ডার গড়ছে সরকার টানা ১০ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলছে স্কুল-মাদরাসা এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬: রফিক-আশরাফুলের উপস্থিতিতে জমকালো উদ্বোধন জিয়াউর রহমান থেকে তারেক রহমান: জাপানের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা রপ্তানির চাপে কারখানা, অনিশ্চয়তায় শ্রমিকদের জীবিকা শাশুড়ির প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিশেষ দিন আজ আজ থেকে কিংস অ্যারেনা ও আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জমবে লড়াই পাঁচ হাজার নারীকে স্বাবলম্বী করেছেন লিপি, পাশে থাকার আশ্বাস ডিসির

কলাপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভা

নড়াইলের কাগজ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩১ মে, ২০২৪
  • ২৩২ বার পঠিত

একদিনের খবরেই জনতার ঢল

কথা ছিল দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থান নির্ধারণ হয় পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মোজাহারউদ্দিন বিশ্বাস কলেজ মাঠ। কিন্তু সেই ত্রাণ বিতরণের মাঠই শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় জনতার সমুদ্রে। মাত্র একদিন আগে পাওয়া খবরে বিপুল এই জনতার ঢলে অভিভূত হন খোদ প্রধানমন্ত্রী।

জনতার উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সেই কথা উল্লেখও করেন। তবে লাখো জনতার এই উপস্থিতির পরও অগণিত মানুষ কলাপাড়া থেকে ফিরেন ভাঙা মন নিয়ে। দেরি করে আসায় তারা পৌঁছাতে পারেননি মুজিবকন্যার জনসভাস্থলে। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের আটকে দেওয়া হয় মোজাহারউদ্দিন বিশ্বাস (এমবি) কলেজ মাঠের বেশ খানিকটা আগে। ফলে এত কাছে এসেও জাতির পিতার কন্যাকে দেখতে না পারার মনঃকষ্ট নিয়েই তাদের ফিরে যেতে হয়। রোববার আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে ক্ষতবিক্ষত উপকূল। ঝড়ের আঘাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা। মঙ্গলবার সকালে ঘোষণা আসে দুর্গত এলাকা দেখতে আসবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয় তিনি পটুয়াখালী যাবেন।

দুপুরে একনেকের বৈঠক শেষে পটুয়াখালী সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ-সদস্য এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান। আলোচনাকালে কলাপাড়ার ত্রাণ বিতরণ উপলক্ষ্যে জনসভা করার অনুমতি চান প্রতিমন্ত্রী।

ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কলাপাড়া যাচ্ছেন শুনে এলাকার বহু মানুষ তাকে একনজর দেখার ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আমাকে ফোন দেয়। সাধারণ মানুষের এই ইচ্ছার কথা জানাই নেত্রীকে। সব শুনে তিনি ত্রাণ বিতরণস্থলে গণজমায়েতের অনুমতি দেন। তার অনুমতি পাওয়ার পর শুরু হয় জনসমাগমের প্রস্তুতি।’

কলাপাড়া পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি বিপুল হাওলাদার বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকাল ৪টা নাগাদ ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী জানান এমবি কলেজ মাঠে সমাবেশ করার কথা। এরপর থেকেই মূলত আমরা ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের বিষয়টি জানাতে শুরু করি।’

কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব তালুকদার বলেন, ‘বুধবার সারা দিন ঘূর্ণিঝড় উপদ্রুত এলাকা সফর করেন আমাদের সংসদ-সদস্য ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান। তিনি দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ান। এই ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি কলাপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দেন। জনসমাগমের যাবতীয় আয়োজনও তিনি করেন। প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় আসতে ইচ্ছুকদের যাতে কষ্ট না হয়, সেই ব্যবস্থাও করা হয়। যে কারণে সুযোগ পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ বিতরণের কর্মসূচিতে জনতার ঢল নামে।

সরেজমিন দেখা যায়, বৃহস্পতিবার কাকডাকা ভোর থেকেই বানের পানির মতো বিভিন্ন এলাকা থেকে উপজেলা শহর কলাপাড়ায় মানুষ আসতে শুরু করে। নানা ধর্ম-বর্ণ আর বয়সের নারী-পুরুষ এসে জড়ো হতে থাকেন এমবি কলেজ মাঠে। সকাল ১০টা নাগাদ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় বিশাল মাঠ। মাঠে জায়গা না পেয়ে মানুষ অবস্থান নেন মাঠসংলগ্ন সড়কসহ আশপাশের বাড়িঘর আর দোকানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আঙিনায়।

কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, ‘মাত্র একদিনের নোটিশে আয়োজিত এ জনসভায় যে এভাবে মানুষের ঢল নামবে, তা আমরা কল্পনাও করিনি। যারা এসেছেন, তাদের প্রায় সবাই সাধারণ মানুষ। কোনো দলমত নয়, প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখা আর তার বক্তব্য শুনতেই সবাই ছুটে আসেন।’

সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ বাধে বিপত্তি। এমবি কলেজ মাঠে যাওয়ার সব পথ আটকে দেয় পুলিশ। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সকাল সাড়ে ১০টার পর ওই পথে আর কাউকে যেতে না দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। সে অনুযায়ী গড়ে তোলা হয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয়। কাউকে আর যেতে দেওয়া হয়নি কলেজ মাঠের দিকে।’

তখনও জনতার স্রোত আসছিল কলেজ মাঠের উদ্দেশে। হাঁটা পথ মাড়িয়ে, নৌকা-ট্রলারে করে আসছিল অসংখ্য মানুষ। সবার একটাই উদ্দেশ্য-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একনজর দেখা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাঠ অবধি পৌঁছতে না পেরে কষ্ট বুকে নিয়ে ফিরে যেতে হয়েছে তাদের। স্থানীয় সংবাদকর্মী গোফরান পলাশ বলেন, ‘এমবি কলেজ মাঠ ও সংলগ্ন এলাকায় যারা ছিল তো ছিলই, মাঠ পর্যন্ত পৌঁছাতে না পেরে ফিরে যাওয়া জনতার সংখ্যাও লাখখানেকের কম হবে না। অসংখ্য নারী-পুরুষকে এভাবে ফিরে যেতে হয় ভাঙা মনে। মূলত স্বল্পসময়ের নোটিশে আয়োজন বলেই এটা হয়েছে। সবাইকে জনসভাস্থলে পৌঁছানোর সঠিক সময় হয়তো জানাতে পারেননি স্থানীয় নেতারা।’

প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসার পরও ব্যর্থ হয়ে ফিরে যাওয়াদের একজন আনিস তালুকদার। সত্তরোর্ধ্ব এই বৃদ্ধের বাড়ি কলাপাড়ার ধুলাসার গ্রামে। বেলা ১১টার একটু পরে তিনি পৌঁছান উপজেলা শহরে। এমবি কলেজ মাঠে যাওয়ার সময় সবুজবাগ এলাকায় তাকে আটকে দেয় পুলিশ।

প্রধানমন্ত্রীকে চোখের দেখা দেখতে না পেয়ে হতাশা নিয়ে বলেন, ‘সত্তর সাল থেকে শেখ সাহেবের নৌকায় ভোট দিয়ে আসছি। তাই শেখের মাইয়ারে একনজর দেখতে ছুটে এসেছিলাম। না দেখতে পেরে কষ্ট নিয়ে ফিরে যাচ্ছি।’ একই দুঃখ লতাচাপলী ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, চাকামইয়া ইউনিয়নের নিশান বাড়িয়া থেকে আসা নাসিমা বেগম ও তার মেয়ে মুনিয়ার মনে। দূরের গ্রাম থেকে এসেও প্রিয় নেত্রীকে দেখতে না পেরে ফিরে যেতে হয় তাদের। একইভাবে ফিরে গেছেন চাকামইয়ার বাসু হাওলাদার, কুয়াকাটার কাছিমখালী গ্রামের মালেক ফরাজী, আ. জব্বারসহ হাজার হাজার মানুষ।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে হেলিকপ্টারে কলাপাড়া এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জনসভাস্থলে দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ এবং সবার উদ্দেশে বক্তৃতা দেওয়ার পর তিনি যান পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে। সেখানে বরিশালের বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিকাল ৩টা নাগাদ তিনি ফিরে যান রাজধানী ঢাকায়।

 

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
  • © স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ নড়াইলের কাগজ
পরিক্ষামূলক সম্প্রচার
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park