বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতায় বাইসাইকেলে ফেরি করে হরেক রকম প্লাস্টিকের মালামাল বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মো. আসলাম আলী। কঠোর পরিশ্রম, সততা ও ইচ্ছাশক্তি নিয়ে ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের মালামাল ব্যবসায়ী আসলাম আলী নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলায় জন্ম হওয়া সত্বেও তার বেড়ে ওঠা গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া উপজেলার ভাঙ্গার হাট এলাকায়। জীবিকার তাগিদে তিনি বর্তমানে উজিরপুরের হারতা বাজারে ঘর ভাড়া করে থাকেন। ভোরে ঘর থেকে বের হয়ে নিজের পুরনো সাইকেলে বোঝাই করে নেন প্লাস্টিকের বালতি, বাটি, জগ, প্লেট, জালি, চামচ, ঢাকনা, কড়াইসহ নানা ধরনের গৃহস্থালী পণ্য। তারপর একের পর এক গ্রাম পাড়ি দিতে থাকেন- যেমন সাতলা, বাগধা, আমবৈলা, নাগরা, চান্দো, চক্রীবাড়ি, পটিবাড়ি, হারতা, বিশারকান্দি, শিবপুর, নয়াকান্দী, আশকোর, কালবিলাসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে নিয়মিত পৌঁছে দেন হরেক রকমের পণ্য।
চুয়াডাঙ্গা জেলার কুড়োলগাছি গ্রামের সন্তান মো. আসলাম আলী আজ এলাকার মানুষের অনুপ্রেরণা। কঠোর পরিশ্রম, সততা ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন স্বাবলম্বী ব্যবসায়ী হিসেবে। বাইসাইকেলে করে বাড়ি বাড়ি ঘুরে নানা প্লাস্টিক সামগ্রী বিক্রি করে জীবিকার পথ খুঁজে পেয়েছেন তিনি। আর এই পথটাই আজ তাকে এনে দিয়েছে আত্মমর্যাদা ও সম্মান।।
আসলাম আলী বলেন, ‘বাবা সারা জীবন পরিশ্রম করে বাড়ি বাড়ি ঘুরে মালামাল বিক্রি করেছেন। তার শিক্ষা থেকেই আমি এই পেশা বেছে নিয়েছি। পরিশ্রম করলে আল্লাহ কখনও কাউকে নিরাশ করেন না। আজ আমি নিজের উপার্জনে চলছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় গর্ব।’
একসময় জীবন-সংগ্রামে জর্জরিত এই মানুষটি আজ নিজের পরিশ্রমে স্বাবলম্বী হয়ে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। গ্রামবাংলার এমন সংগ্রামী মানুষগুলোই প্রমাণ করে—সুযোগ নয়, ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমই একজন মানুষকে গড়ে তোলে তার প্রকৃত উচ্চতায়।
স্থানীয়দের দরজায় দরজায় গিয়ে তিনি শুধু মালামাল বিক্রিই করেন না, বরং মানুষের সঙ্গে গড়ে তোলেন আন্তরিক সম্পর্ক। তার হাসিমুখ, ভদ্র ব্যবহার ও সৎ ব্যবসায়ী মনোভাব তাকে মানুষের কাছে বিশ্বস্ত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।
সম্পাদক : মোঃ খাইরুল ইসলাম চৌধুরী
কার্যালয়: চৌধুরী বাড়ী, শুড়িগাতী, নড়াগাতী, কালিয়া, নড়াইল।
যোগাযোগ: ০১৭১১৩৩২১২২
নড়াইলের কাগজ