
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৬১তম জন্মদিন আজ বৃহস্পতিবার। ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে।
দলের নীতি–নির্ধারণী বিষয়, সাংগঠনিক পরিকল্পনা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তার ভূমিকার কারণে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছেন। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা অবস্থায়ও তিনি ভার্চুয়ালি দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে আসছেন বলে জানান দলের নেতারা।
বিএনপির দাবি অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় তারেক রহমানের নির্দেশনায় দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মাঠে সক্রিয় ছিলেন। দলটির বিবৃতিতে বলা হয়, সে সময় সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে তিনি নিয়মিত নির্দেশনা দেন। বিএনপি বলছে, আন্দোলনের সময় বিভিন্ন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঠেকাতে স্থানীয়ভাবে পাহারা বসানো, পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক তৎপরতা, বন্যায় ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমেও নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখেন তিনি।
তার জন্মদিনকে ঘিরে এবারও কোনো অনুষ্ঠান না করার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কেক কাটা, পোস্টার, ব্যানার বা আলোচনা সভা—কোনো ধরণের প্রকাশ্য আয়োজন করা যাবে না। দলীয় নির্দেশনা মেনে চলার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোরভাবে আহ্বান জানানো হয়।
২০০৮ সালের পর থেকে লন্ডনে অবস্থান করছেন তারেক রহমান। সেখানে থেকেই তিনি দল পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, প্রতিদিন দীর্ঘ সময় সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি অনলাইনে যোগাযোগ করেন এবং সাংগঠনিক কাজে নির্দেশনা দেন।
শিক্ষাজীবনে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি হন। শিক্ষাজীবন শেষে ব্যবসাকে পেশা হিসেবে নেন তিনি।
১৯৯৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের বড় মেয়ে ডা. জুবাইদা রহমানকে বিয়ে করেন। তাঁদের একমাত্র কন্যা জায়মা রহমান বর্তমানে ব্যারিস্টার পেশায় যুক্ত।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় পারিবারিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকেই। বিএনপির বগুড়া জেলার কমিটিতে সদস্য হিসেবে যুক্ত হওয়ার পর তিনি ধীরে ধীরে মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ২০০২ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং পরবর্তীতে দুদ successive জাতীয় কাউন্সিলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারামুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি কার্যত দলের সব কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে আছেন।
সম্পাদক : মোঃ খাইরুল ইসলাম চৌধুরী
কার্যালয়: চৌধুরী বাড়ী, শুড়িগাতী, নড়াগাতী, কালিয়া, নড়াইল।
যোগাযোগ: ০১৭১১৩৩২১২২
নড়াইলের কাগজ