
মফস্বলে খবর করতে
সাংবাদিক আগে যায়,
ঘটনার চেয়ে অনেক সময়
প্রশ্ন আসে “কার পক্ষে যায়?”
থানায় গেলে চেনা মুখ,
অফিসে গেলে ব্যস্ততা,
“ভাই, নিউজটা একটু দেখেন”
শুরু হয় অনুরোধের কথা।
কেউ বলে, “আমার নামটা
শিরোনামে একটু দেন,”
কেউ বলে, “ওর বিরুদ্ধে
দু-চার লাইন লিখে দেন।”
কেউ টাকা হাতে ধরিয়ে বলে
“ভাই, নিউজটা করেন,”
আবার কেউ সত্য ঘটনা বলেও
বলে “ভাই, ছাপবেন না যেন!”
কারও পকেটে টাকা আছে,
কারও আছে শুধু ক্ষত,
টাকার জোরে খবর জাগে,
গরিবের খবর নীরব?
একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেলে
সাংবাদিক ছুটে যায়,
লাশের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে
রাতে নিউজ পাঠায়।
তারপর প্রশ্ন
“ভাই, নিউজটা কোথায়?”
বেতন কবে আসবে
সেই প্রশ্নের উত্তর
অনেক সময় কেউ জানায় না।
মাস শেষে অফিস বলে,
“এই মাসটা একটু কষ্ট করেন,”
সাংবাদিক নিজের পকেট থেকে
যাতায়াতের খরচ দেন।
পেট্রোলের টাকা নিজের,
মোবাইলের বিল নিজের,
তবু খবরের ভুল হলে
দোষটা শুধু তারই।
স্থানীয় নেতা ফোন করেন
“নিউজটা যেন না হয়।”
ব্যবসায়ী বলেন
“আমার বিজ্ঞাপন আছে,
খবরটা একটু ভালো হয়।”
আর সাংবাদিক মাঝখানে
কলম হাতে দাঁড়ায়,
সত্য লিখলে সম্পর্ক নষ্ট,
চুপ থাকলে বিবেক কাঁদায়।
টাকা দিলে নিউজ হবে
এটা সাংবাদিকতা নয়;
না দিলেও নিউজ হবে না
এটাই কি তবে বাস্তব নয়?
তবু সব সাংবাদিক এক নয়,
সব খবরও কেনা নয়,
অন্ধকারের ভেতরেও কিছু কলম
আজও বিক্রি হয় না।
কেউ রাত জেগে খবর লেখে,
কেউ সত্যের পক্ষে দাঁড়ায়,
কেউ চাপ এলেও কলম থামায় না
চাকরি গেলেও ভয় পায় না।
মফস্বল মানে শুধু
রাজধানী থেকে দূরত্ব নয়,
এখানেও মানুষের কান্না আছে,
অন্যায় আছে, স্বপ্নও রয়।
কৃষকের ধান পুড়ে গেলে
সেটাও তো একটা খবর,
গরিবের মেয়ের বিয়ে না হলে
সেটাও সমাজের কষ্টের খবর।
স্কুলের ছাদ ভেঙে পড়লে,
রাস্তা ভেঙে গেলে,
হাসপাতালে ওষুধ না থাকলে
সাংবাদিকের কলম জ্বলবে।
খবর হবে না টাকার জোরে,
খবর হবে সত্যে,
যার কণ্ঠ নেই তার কণ্ঠ হবে
একজন সৎ সাংবাদিকের হাতে।
মফস্বলের সাংবাদিকতা বদলাক,
বদলাক এই নিয়ম
নিউজ বিক্রি নয়,
নিউজ হোক মানুষের অধিকার।
সাংবাদিক বাঁচুক সম্মানে,
সাংবাদিকতা থাকুক স্বাধীন,
আর সত্য খবরের সামনে
ধনী-গরিব হোক সমান।
সম্পাদক : মোঃ খাইরুল ইসলাম চৌধুরী
কার্যালয়: চৌধুরী বাড়ী, শুড়িগাতী, নড়াগাতী, কালিয়া, নড়াইল।
যোগাযোগ: ০১৭১১৩৩২১২২
নড়াইলের কাগজ