
গণমাধ্যমকে বলা হয় সমাজের দর্পণ। কারণ সমাজের বাস্তব চিত্র, মানুষের প্রত্যাশা, অনিয়ম-দুর্নীতি, উন্নয়ন, সাফল্য ও সমস্যাগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরাই গণমাধ্যমের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
কিন্তু এই দর্পণ যদি রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিস্বার্থ কিংবা কোনো পক্ষের চাপের কারণে মলিন হয়ে যায়, তাহলে সমাজের প্রকৃত চিত্রও মানুষের সামনে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় না।
গণমাধ্যম কোনো রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রচারযন্ত্র নয়। গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব হলো সত্য, তথ্য ও জনস্বার্থের পক্ষে থাকা। রাজনৈতিক মতাদর্শ যার যার ব্যক্তিগত বিষয় হতে পারে; কিন্তু সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার নীতি, নিরপেক্ষতা, ভারসাম্য এবং তথ্যের সত্যতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
একজন গণমাধ্যমকর্মী যখন রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের কথা বলেন, তখন তার কলম হয়ে ওঠে নিপীড়িতের কণ্ঠস্বর। অন্যায় দেখলে প্রশ্ন করা, অনিয়ম তুলে ধরা এবং ভালো উদ্যোগের প্রশংসা করা এটাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিচয়।
তবে স্বাধীনতার পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রকাশ করা, গুজব ছড়ানো কিংবা ব্যক্তিগত আক্রোশকে সংবাদে রূপ দেওয়া সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে যায় না। স্বাধীনতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন নৈতিকতা ও জবাবদিহি।
রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত গণমাধ্যম শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশার কথাও যথাযথভাবে তুলে ধরে।
তাই গণমাধ্যমকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
কারণ গণমাধ্যম যখন সত্যের পক্ষে দাঁড়ায়, তখন সমাজ পথ খুঁজে পায়। আর গণমাধ্যম যখন রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে কাজ করে, তখনই তা হয়ে ওঠে সমাজের সত্যিকারের দর্পণ।
সম্পাদক : মোঃ খাইরুল ইসলাম চৌধুরী
কার্যালয়: চৌধুরী বাড়ী, শুড়িগাতী, নড়াগাতী, কালিয়া, নড়াইল।
যোগাযোগ: ০১৭১১৩৩২১২২
নড়াইলের কাগজ